বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মেয়েরা কেন পিছিয়ে?

ঢাকার কারওয়ানবাজার সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কে। বহুতল এই ভবনে অন্তত ১৬ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নানা ধরণের তথ্য ও প্রযুক্তিগত সেবা দিচ্ছে।

একটি কল সেন্টারে গ্রাহকদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার কর্মীরা। এই কল সেন্টারে ৫ মাস হলো কাজ করছেন নাদিয়া। তবে কল সেন্টারের চেয়ে প্রোগ্রাম ডিজাইনিং এ তার আগ্রহ বেশি।

তিনি বলছিলেন “একটা পুরো প্রোগ্রাম ডিজাইন আমি করতে পারি। কিন্তু এখানে মনে করা হয় কল সেন্টারেই মেয়েরা ভালো করবে। আমি আশা,বিশ্বাস একদিন প্রোগ্রাম ডিজাইন করবো যেটা সবায় অ্যাপ্রুভ করবে”।

তথ্য -যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে কল সেন্টার মাত্র একটি অংশ। বিশাল এই খাতে নানা ধরণের কাজ হয়।

যেমন প্রডাক্ট ডেভলপমেন্ট ও সার্ভিস রিলেটেড । প্রডাক্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, ওয়েব অ্যাপলিকেশন, মোবাইল অ্যাপলিকেশন,গেম ডেভলপমেন্ট , রোবোটিক্স ইত্যাদি।

কিছু দিন আগে ঢাকায় হয়েছিল উইমেন হ্যাকাথন
কিছু দিন আগে ঢাকায় হয়েছিল উইমেন হ্যাকাথন

শুনতে অনেকটা খটোমটো হলেও এর উপর এখন নির্ভর করে একটি দেশের উন্নয়নের মান। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছর গুলোতে আইটি খাতে নানা ধরণের কাজ করছে।

তবে সেখানে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যা অনেক কম। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বলছে ১২ শতাংশ মেয়ে কাজ করছে এখন।

আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বেসিস বলছে এই সংখ্যা ১০ শতাংশ। আর বেসরকারি একটি আইটি প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাব- তাদের গবেষণায় বলছে এর সংখ্যা আরো কম- ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা ৮.৭০%।

প্রশ্ন উঠছে বিশাল একটা সম্ভাবনাময় উপার্জন খাতে মেয়েরা এত কম সংখ্যায় কাজ করছে কেন?

রাবেয়া, কাজ করছেন একটি আইটি কোম্পানিতে। বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সসিং তার মূল কাজ। প্রশ্ন করলাম সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, ওয়েব অ্যাপলিকেশনে কাজ করছেন না?

“এখানে একটা ধারণা আছে মেয়েরা বিপিও মানে কল সেন্টার, ব্যাক অফিস ওয়ার্ক এসবে ভালো করবে তাদের নরম স্বভাবের কারণে। কিন্তু সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, ওয়েব অ্যাপলিকেশনে মনে করে ছেলেদের কাজ। একটা মাইন্ড সেট হয়ে গেছে, মনে করে এটা ওরাই ভালো পারবে। ফলে বড় সংখ্যার মেয়েরা এই জায়গায় আসতে পারে না” বলছিলেন তিনি।

রাবেয়ার কথা সত্যি হলে ধরে নিতে হয় আইসিটি খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ-দাতাদের প্রথম পছন্দ এখন ছেলে। প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষ কাজ করা এই সেক্টরে নিয়োগ-দাতারা, একজনকে নিয়োগের সময় আসলে কোন দিক গুলোর কথা চিন্তা করেন?

ঢাকার বনানীতে অবস্থিত, চ্যাম্পস২১ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাসেল টি আহমেদ বলছিলেন “সময় এবং যোগ্যতা। অর্থাৎ সময় কতটা দিতে পারবে এবং স্কিল্ড কিনা। মেয়ে -ছেলে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে দেখা যায় একটা মেয়ে অত্যন্ত স্কিল্ড কিন্তু বলছে বিকেল ৫টার পর কাজ করতে পারবে না। এখন এই সেক্টরে কাজের কোন টাইম ফ্রেম নেই। একটা সফটওয়্যার সলিউসনে আপনার ১২/১৩ ঘণ্টা লাগতে পারে। আবার ইউরোপ, আমেরিকার সাথে আমার রাত দিনের পার্থক্য”

মি. আহমেদের প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১০% নারী কাজ করছেন।

মেয়েরা সেখানে পড়ছেন এবং প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন।
মেয়েরা সেখানে পড়ছেন এবং প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে স্কুল পর্যায়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারি,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে রয়েছে আইটি বিষয়। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে উভয় ভাবে। মেয়েরা সেখানে পড়ছেন এবং প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। তবে কর্মক্ষেত্রে কেন পিছিয়ে?

মোহাম্মদপুরে আমার গন্তব্য উইমেন ইন ডিজিটাল নামে একটি আইটি অফিস।

অফিসটিতে মোট ১৮ জন মেয়ে কাজ করছেন। কেউ করছেন অফিসে বসে কেউ নিজের বাসা থেকে।

উইমেন ইন ডিজিটাল এর প্রধান আছিয়া নীলা
উইমেন ইন ডিজিটাল এর প্রধান আছিয়া নীলা

উইমেন ইন ডিজিটাল এর প্রধান আছিয়া নীলা বলছিলেন তিনি যখন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সেখানে তিনি কিভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

“একটা পর্যায়ে দেখা গেল প্রত্যেকটা প্রজেক্টের টিম লিডার আমি। সফটওয়্যার ডেভেলপ করা থেকে শুরু করে মার্কেটিং পর্যন্ত। কিন্তু কোথাও আমার নাম যাচ্ছে না। আবার বছরের পর বছর আমার পদ,বেতন এক। একদিন মিটিংএ আমার প্রমোশনের কথাটা বললাম কিন্তু কেও সদুত্তর দিতে পারলো না”।

দীর্ঘ দিন কাজ করে মেধার স্বীকৃতি না পেয়ে তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। এবং সেখানে শুধু মেয়েদেরকেই নেন। কারণ চাকরি-দাতা হিসেবে তিনি এখন মনে করেন মেয়েদের মেধা,যোগ্যতা কোন অংশেই ছেলেদের চেয়ে কম নয়।

অন্যান্য দেশেও আইসিটি খাতে মেয়েরা পিছিয়ে

ইন্ডিয়া ডাটাকোয়েস্ট বেস্ট অ্যাম্পয়লার সার্ভে ২০১২ বলছে পাশের দেশ ভারত যারা তথ্য-প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছে তাদের দেশে এই সংখ্যা শতকরা ২২%।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের 'দিন বদলের সনদ'-এ ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘দিন বদলের সনদ’-এ ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনসংখ্যা ব্যুরোর ২০১৪ রিপোর্ট বলছে তথ্য প্রযুক্তির হাব বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে সেখানে মাত্র ৩০% মেয়ে।

তথ্য প্রযুক্তি খাতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা সায়েন্স, বিগডাটা, আইওটি, টেস্টিং, ডাটা এন্ট্রি, ই-কমার্স প্রোডাক্ট এন্ট্রি প্রভৃতি নিয়ে কাজ হয়।

বাংলাদেশে একটি সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট কোম্পানি দোহা টেক নিউ মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটিতেও কাজ করেন ১০ থেকে ১২% নারী। প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান লুনা শাসুদ্দোহা কাছে জানতে চেয়েছিলাম কেন মেয়েরা এক্ষেত্রে বেশি কাজ পাচ্ছে না?

তিনি বলছিলেন “আমি যখন একটা মেয়েকে নেয় তখন দেখা যাচ্ছে স্বামীর চাকরীর ট্রান্সফারের সাথে সে চলে যাচ্ছে অর্থাৎ পরিবারটা তার কাছে মুখ্য। আমি তিনটা মেয়েকে নিয়েছি যারা নেয়ার পর বাইরে পিএইচডি করতে চলে গেছে।সেখানে আমার কোম্পানি সাফার করছে। তবে বেশির ভাগ থাকে না সামাজিক কারণে।আমরা যেহেতু একটু স্পেসেফিক এরিয়াতে কাজ করি সেখানে উচ্চ লেভেলে মেয়ে কম পাওয়া যায় না। আমার একটা প্রজেক্ট আছে যেখানে ২৪/৭ কাজ চলে সেখানে আমি মেয়েদের নিতে পারিনা তাদের সামাজিক ইস্যু এবং নিরাপত্তার কথাটা মাথায় রাখতে হয় আমাকেই”।

তথ্য-প্রযুক্তি খাকে কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করে আর কেউ কেউ ইন-হাউজে কাজ করে।

যেখানে বাসায় বসেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে সেখানে কি বাড়তি সুবিধা এনে দিচ্ছে না মেয়েদের?

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং এর সেক্রেটারি জেনারেল তৌহিদ হোসেন
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং এর সেক্রেটারি জেনারেল তৌহিদ হোসেন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং এর সেক্রেটারি জেনারেল তৌহিদ হোসেন বলছিলেন আমাদের এখন উৎসাহ দেয়া হচ্ছে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী কর্মী রাখার জন্য। কিন্তু চাইলেও আমরা পারছি না।

মি. হোসেন বলছিলেন “কল সেন্টারে মেয়েরা কাজ করলেও সেটাকে মূল তথ্য-প্রযুক্তি খাত মনে করে না অনেকে। হার্ডওয়ার,সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা অন্য কাজ যেগুলো সেখানে মেয়েরা যে কাজ করতে পারে সেটা প্রচারণার অভাব আছে। আমরা বিদেশি ফান্ড নিয়ে যখন কাজ করি তখন আমাদের বলা হয় ৩০% করতে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমরাও পাই না। তাই ছেলেদেরকেই নিতে হয়”।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘দিন বদলের সনদ’-এ ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু মাত্র ১০% মেয়ে যদি এই খাতে কাজ করে তাহলে দিন বদল কিভাবে সম্ভব?

আমি এসেছি আগারগাওয়ে বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অফিসে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরি

মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কি করছেন তারা। সচিব সুবির কিশোর চৌধুরিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

তিনি বলছিলেন “প্রথমেই স্বীকার করছি মেয়েরা কম এই কথাটা। এখন সরকার যেটা করছে লার্নিং এন্ড আর্নিং প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে শুধু ইউনিয়ন লেভেলে ২০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জুলাই থেকে শী পাওয়ার নামে এক প্রকল্পে ২১ টি জেলায় ১০ হাজার ৫০০ নারীকে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে”।

শুরুতে নাদিয়ার কথা বলছিলাম, তিনি কাজ করতে চান সফটওয়্যার ডিজাইনে যেটা কিনা তথ্যপ্রযুক্তির মুল কাজ গুলোর একটিকে ধরা হয়।

কিন্তু তিনি বলছিলেন সুযোগের অভাবে কল সেন্টারে কাজ করছেন তিনি।

বলছিলেন মনের মত কাজ না পেলে এই সেক্টর পুরোপুরি ত্যাগ করবেন তিনি।

তবে সার্বিক ভাবে নারীদের পিছিয়ে থাকার কারণ অনেকটা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি আবার কিছু সময় মেধা ও যোগ্যতা থাকলেও তারা তথ্য-প্রযুক্তি খাত থেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য স্থানে যাচ্ছেন।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা। 

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। আজ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৬-এর ভিত্তিতে এ বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।বিস্তারিত…

ঢাকা বোর্ডে এসএসসি’র প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কি হয়নি?

প্রশ্ন ফাঁস
মূল প্রশ্নপত্র এবং ইন্টারনেটে পাওয়া প্রশ্নপত্র পাশাপাশি ছাপিয়ে দেয় বিডিনিউজ

ঢাকা বোর্ডের এসএসসিতে গণিতের পরীক্ষা ছিল রোববার।

আগে থেকেই ঢাকায় পরীক্ষার্থী কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এবং ইন্টারনেটে তা পাওয়া যাচেছ।

পরীক্ষার দিন ঢাকার ইন্টারনেট-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করে পরীক্ষার আগের দিনই প্রশ্ন পাওয়া যাচিছল। প্রতিবেদনে তারা প্রামাণ্য কিছু ছবিও ছাপে যেখানে দেখা গেছে পরীক্ষার দিন ভোরেই হোয়াটসঅ্যাপে ছাপা প্রশ্ন আদান প্রদান হচ্ছে।

যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে এবং ইন্টারনেটে কথিত ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কিছু নমুনা মিলিয়ে দেখা যায়, বীজগণিত ও জ্যামিতি অংশগুলোতে অনেক মিল । কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে হুবহু সাদৃশ্য।

পরীক্ষার্থীদের অনেকের অভিযোগ, তাদের সহপাঠীদের কেউ কেউ পরীক্ষার আগের রাতেই পেয়েছে প্রশ্নপত্র।বিস্তারিত…

পাঠ্যপুস্তকের ভুল শোধরানো হবে: বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিবিসিকে বলেছেন, বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের সকল ভুল শোধরানো হবে।

বছরের প্রথম দিনে দেশটিতে কয়েক কোটি শিশু ও কিশোরের হাতে ৩৬ কোটির বেশী বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয় সরকার, কিন্তু এর পর থেকেই এসব পুস্তকের বিভিন্ন ভুল ও অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।

কয়েকদিন ধরে চলা টানা সমালোচনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কিছু অমার্জনীয় ভুল হবার কথা স্বীকার করে বলেন, এরই মধ্যে পাঠ্যপুস্তকের প্রধান সম্পাদক ওএসডি করা হয়েছে।

এছাড়া গঠন করা হয়েছে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি, যার একটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অপর তদন্ত কমিটিটি জাতীয় পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবির।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সবক্ষেত্রেই ভুলত্রুটি থাকতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে যেসব বড় ধরণের ভুলের তথ্য পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

“বড় কথা হল, আমরা সঠিক করে, কারেকশন করে পাঠিয়ে দেব।যেখানে বড় সংশোধন দরকার সেটাও করব, ছোট হলে ছোটর মধ্যে করব”, বলছিলেন মি.নাহিদ।বিস্তারিত…

প্রাথমিক বই বিতরণে জোড়াতালি নিম্নমানের কাগজ, আসেনি বিদেশে ছাপানো বই…

বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই তুলে দিতে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও চলতি বছরে সময়মতো সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এছাড়া নিম্নমানের কাগজ ও পাঠ্যবইয়ে নানা ভুলভ্রান্তি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ পার হলেও বিদেশে ছাপানো প্রাথমিকের ৪৭ লাখ বই এখনো বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। দরপত্রে বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী বই সরবরাহ করতে পারেনি দেশি অনেক মুদ্রাকরও। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে একটি-দু’টি বই তুলে দিয়ে সান্তনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব বইয়ের নিম্নমানের কাগজ অতীতের সব রেকর্ড যেন ছাড়িয়ে গেছে।বিস্তারিত…

শিক্ষার্থীদের বিপথগামিতা রোধে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপথে নেওয়া ঠেকাতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।’গণভবনে বুধবার সকালে ভিডিও কনফান্সের ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দরকার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া কোনো দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে না। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় হবে। কোথাও সরকারি অথবা বেসরকারি উদ্যোগে।’

তিনি বলেন, ‘২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে এ দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে পদক্ষেপ নেই। শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল। এলাকা ধরে ধরে নিরক্ষরমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলাম আমরা।’

পথে প্রবাসে/ সামিয়া ইসলাম।

পিএসসি ও এবতেদায়ি পরীক্ষা ২০ নভেম্বর শুরু

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) ও এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০ নভেম্বর শুরু হচ্ছে। যা শেষ হবে ২৭ নভেম্বর।

সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

মন্ত্রী জানান, এ বছর প্রাথমিক সমাপনীতে ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৩ জন ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫ জনসহ মোট ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ২০১৮ সাল নাগাদ শুরু হবে। এটি মন্ত্রিসভার দায়িত্ব। বাস্তবায়নে একটু সময় লাগছে।’

তিনি জানান, এ বছর ৭ হাজার ১৯৪টি কেন্দ্রে পিএসসি ও এবতেদায়ি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দেশের বাইরে কেন্দ্র রয়েছে ১১টি।

তিনি বলেন, ‘প্রথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্নের জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা আছে, তা মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁস কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা নেই।’

পথে প্রবাসে/সামিয়া ইসলাম।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে শুরু

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা-২০১৬ আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে। এবার ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২৮ হাজার ৭৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

এ বছর জেএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে নয় লাখ ৪৯ হাজার ১৪৫ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ৭৫ হাজার ২২৮ জন ছাত্রী। জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট তিন লাখ ৭৮ হাজার ৪৭২ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এক লাখ ৭৫ হাজার ২২৮ ছাত্র ও এক লাখ ৯৯ হাজার ২৪৪ জন ছাত্রী।

এ ছাড়া আটটি বিদেশি কেন্দ্রের মাধ্যমে জেএসসি পরীক্ষায় মোট ৬৮১ শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

গত বছরের ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৩ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৬ হাজার ৮৪২ জন বলে বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ নভেম্বর থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হবে এবং শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। আর ফল প্রকাশিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।

২০১০ সালে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১০ সালে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৮০২ শিক্ষার্থী, ২০১১ সালে ১৮ লাখ ৬১ হাজার ১১৩, ২০১২ সালে ১৯ লাখ আট হাজার ৩৬৫, ২০১৩ সালে ১৯ লাখ দুই হাজার ৭৪৬, ২০১৪ সালে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন এবং ২০১৫ সালে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৩ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

সুত্রঃ এনটিভি অনলাইন।

পর্নে আসক্ত ঢাকার ৭৭ ভাগ স্কুলগামী শিশু

প্রতিকী ছবি

স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পর্নোগ্রাফির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে তৈরি পর্নো ভিডিও মানুষ বেশি দেখছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশে তৈরি এই পর্নোগ্রাফিগুলোয় যাদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে তাদের বয়স ১৮-এর কম। অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিশুর প্রতি জীবনদক্ষতার অভাবেই পর্নোগ্রাফির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এছাড়া দেশের অনেক এখন পর্নোগ্রাফি দেখার পাশাপাশি শিশু পর্নোগ্রাফি বানানোর মতো ভয়ংকর কাজে যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

শনিবার সকালে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশে শিশু পরিস্থিতি, সংবাদপত্র বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ অভিমত’ উপস্থাপন করে। তাতেই এসব তথ্য জানা যায়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি সমন্বয় সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল মামুন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, পরিচালক ড. তোফায়েল আহমেদ, বোর্ড সদস্য পারভীন মাহমুদ প্রমুখ।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে ৭৭ ভাগ শিশু নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখছে। তারা সুস্থ যৌন শিক্ষার বিপরীতে বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে।

অনুষ্ঠানে শাহীন আনাম বলেন, শিশুরা এখন পর্নোগ্রাফি ও সাইবার ত্রক্রাইমের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে পরিবারকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা শুধু একার পক্ষে সম্ভ নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে শিশু সুরক্ষার মূল দায়িত্ব নিতে হবে। সর্বোপরি সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

তিনি ২০১৫ সালকে শিশুদের জন্য ভয়াবহ একটি বছর বলেও মন্তব্য করেন।

সূত্রঃ আমার সংবাদ।

খুলেছে জবি ক্যাম্পাস : উৎসব মুখর পরিবেশ

পবিত্র ঈদ উল আজহার ১৩ দিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রমসমূহ পুনরায় চালু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সহপাঠীদের সাথে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় তাদের মাঝে উষ্ণ ভাব বিনিময় করতে দেখা গেছে।

এই উৎসবমূখর পরিবেশে আরেক মাত্রা যোগ করেছে দীর্ঘ প্রায় একমাস ধরে চলা হল আন্দোলনের সফলতা স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস। ফলে জবি ক্যাম্পাসে ছিল উচ্ছ্বলতায় আর প্রাণবন্তে ভরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের পূর্বনির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো যথারীতি চলবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের চলাচলের কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় বাসগুলোও পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী যাতায়াত করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে গত ৭ সেপ্টেম্বর  থেকে টানা ১৩ দিনের বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড.নুর মোহাম্মদ জানান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিক ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে খুব ভাল লাগছে। অনেক দিন প্রিয় ক্যাম্পাসকে দেখিনি, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়নি। আজ থেকে আবার ক্লাস করবো, শ্যাডোতে আড্ডা দিব ভাবতে ভালো লাগছে।

পথে প্রবাসে//বিএম

শিরোনাম