লন্ডনে ঝিনাইদহবাসীর পিঠা মেলা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শীত মানেই পিঠা-পুলির আয়োজন। ব্যস্ত প্রবাস জীবনে পিঠা-পুলির স্বাদ ছড়িয়ে দিতে রবিবার পূর্বলন্ডনের প্রাণ কেন্দ্র হুয়াইটচ্যাপেলের কলিংউড সেন্টারের পিঠা মেলার আয়োজন করে প্রবাসী ঝিনাইদাবাসীদের সংগঠন “প্রাণের ঝিনেদা“। পারিবারিক পরিবেশে আয়োজিত পিঠা মেলা ছিল সত্যিই মনোমুগ্ধকর ভিন্ন এক আয়োজন। খাওয়ার সাথে দেখার মজাও কম ছিল না। প্রত্যেকেই পরিচিত হতে থাকে নানান রকম ও স্বাদের পিঠা-পুলির সাথে। পিঠা উপভোগের পাশাপাশি আয়োজনের পুরোটা সময় জুড়ে চলে নানা রকম প্রতিযোগিতা ও বিনোদনের ব্যবস্থা।

প্রবাস জীবনের নানান ব্যস্ততার মাঝেও লন্ডন ও পার্শবর্তী শহরগুলো থেকে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের পরিবার পরিজনসহ নিজেদের ঘরে তৈরী পিঠার সমাহার নিয়ে ছুটে আসেন আনন্দঘন এ পরিবেশে যোগ দিতে। নাজমুল হাসান সোহাগ ও চ্যানেল এস এর হেড অফ চ্যারিটি সাংবাদিক তৌহিদুল করিম মুজাহিদের উপস্থাপনা আর তুহিন ফেরদৌসের পরিচালনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বৃটেনে বসবাসকারী প্রবাসী ঝিনাইদহবাসীদের পিঠা মেলার এ আয়োজন।

কলিংউড হলে জাকযমকপূর্ণ এ আয়োজনের অংশ নিতে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে এসেছিল শতাধীক পরিবার। হরেক রকম পিঠার পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসেছিল পিঠা মেলায় আগত পরিবারগুলো। ঝিনুক পিঠা, কুলি পিঠা, চিতই পিঠা, রসে ভিজানো পিঠা, ঝাল পাকান, মিষ্টি পাকান, ভাপা পিঠা, পাটি সাপটা, মুখ পাকড়, বালিশ পিঠা, কিমা পিঠা, দুধপুলি, চন্দ্রপুলি, জামাই ভাজা, বকুল পিঠা, বিবিখানা পিঠা, গোলাপফুল পিঠা, সিমফুল পিঠা, স্যান্ডউইচ, কলিজা সিঙ্গারা, খেজুর গুড়ের পায়েস, ননি গুরের পায়েস, মিষ্টি, গুড়ের জিলাপি, সানার জিলাপি, দই, পুডিং, খির, কেক, কাপ কেক সহ প্রায় ৩০ রকমের পিঠার সমাগম ঘটে পিঠা মেলার এ ছোট্ট আয়োজনে। কত নামের আর কত ধরনের পিঠার যে সমাগম হয়েছিল তা বোঝায়ে শেষ করা যাবে না। বাহারি রংয়ের এসব পিঠা কিনতে কাউকে অবশ্য পকেটের পয়সা খরচ করতে হয়নি। আর তাই তো পিঠা রসিকরা রিতিমত ব্যাস্ত হয়ে উঠেছিল মজার মজার সুস্বাধু পিঠার স্বাদ নিতে। অনেকে আবার বক্স ভর্তি করে নিয়ে গেছে যাবার সময়।

আয়োজকরা বলছেন, প্রবাস জীবনের ব্যাস্ততার মাঝে একটু স্বস্তি পেতে এমন আয়োজন সত্যিই আনন্দের। সেইসাথে নিড়ের সাথে নিজেদের সম্পর্ক আর ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলির সাথে আগামী প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়াই ছিল এই পিঠা মেলার মূল উদ্যেশ্য। আমাদের উদ্যেশ্য যে কতটা সফল তা পরিবারগুলোর দক্ষতা ও তাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখেই বোঝা যায়। মেলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বাবা-মায়ের পাশাপাশি তাদের সন্তানদেরকেও আনন্দে মাতিয়ে রাখা ও পরস্পরের সাথে পরিচয় ঘটিয়ে দেয়া।

পিঠা মেলার এ আয়োজনে যোগ দিতে মাসব্যাপি প্রায় সমস্ত পরিবারগুলোই ছিল বেশ কর্মচঞ্চল। প্রতিটি ঘরেই ছিল ঈদের আনন্দ। সন্তানেরা তাদের মায়েদেরকে নানাভাবে সহায়তা করা সহ নিজেরাও তৈরী করেছে তাদের পছন্দের পিঠা-পুলি, কেক সহ নানান খাবারের আয়োজন। আর প্রতিনিয়ত পরিবারগুলোর সর্বশেষ প্রস্ততির খবরা খবর জানানো হচ্ছিল সংগঠনের ম্যাসেন্জার গ্রূপে। ফলে অন্যরাও উদ্বদ্ধ হচ্ছিল নতুন কিছু তৈরীতে। এ যেন এক ভালো কাজের প্রতিযোগীতা। অনুষ্ঠানে তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে পিঠার সমাহার দেখে। যদিও এটা ছিল পিঠা মেলা তবুও এখানে রাখা হয়েছিল দুপুরের খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। আশরাফুন রনি ও সোনিয়া ফেরদৌসের রান্না করা মজাদার খাবার খেচুরী সাথে মরিচ-পেয়াজের ভর্তা, নানান রকমের আচার, মুরগীর রোস্ট, ডিম ভোনা, খাসীর রেজালা, সালাদ সহ আরো কত কি!

খাবারের পর্ব শেষ হতে না হতেই সবাই ব্যাস্ত হয়ে উঠে তুহিন ফেরদৌসের মজার মজার আয়োজনে। বাচ্চাদের জন্য ফ্রগ জাম্প, চামচ দৌড়, মহিলাদের জন্য বালিশ খেলা, আর জামায়-বৌ‘য়ের জন্য বেলুন ফাটানো আর ফান বক্স লটারী তো বিনোদনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তুহিনের সাথে আমাদের ছোট্ট মামনি ফিজাও কোন অংশে কম যায়নি। তার ছোট্ট হাতে শিল্পের ছোয়া ছোট ছোট শিশুদেরকে অকৃষ্ট করে রাখে। তার হাতের ফেস পেইন্ট করাতে শিশুরা সবাই ব্যাস্ত হয়ে উঠে।  যে কোন আয়োজনে গান পরিবেশনা থাকে বিশেষ আয়োজন। পিঠা মেলায় সে আয়োজনেরও কমতি ছিল না কনোভাবেই। মালিহা তাবাছ্ছুম উপমা, আলামগির আজাদ, শাহনাজ ফেরদৌস, ওমর ফারুক, নাহার নাজমুন সহ আরো অনেকেই তাদের প্রতিভার সাক্ষর রাখতে উপভোগ্য গান উপহার দিয়ে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে রাখে। এবারের আয়োজন পিঠা মেলায় যোগ দিতে এসে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্ররা আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ দিন পর এমন একটি আয়োজনে হাজির হতে পেরে সকল ঝিনেদাবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এমন আরো অয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত সকলেই অত্যন্ত উৎসাহ ও আনন্দের সাথে সহমত পোষন করেন। তারা বলেন, শেকড়ের টানে আজ আমরা একত্রিত হতে পেরেছি। এ ধারা যেন অবিচল আর অব্যাহত থাকে আজীবন। আমাদের সন্তানেরা যেন নিজদেরকে চিনতে ভূল না করে। ভুলে না যায় তাদের শেকড়ের কথা, তাদের আপন জনদের কথা। ভূমিকে ভূলে না যায়। আমাদের এ প্রচেষ্ঠা তাদের জন্য নিশ্চয় নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করবে। আগামীর পথ চলা ও বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ ও নিজ জেলা ঝিনাইদহকে তুলে ধরতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভূমিকার রাখবে এটায় আমাদের প্রত্যাশা।

এ আয়োজন আমাদেরকে শুধু আনন্দই দেয়নি দিয়েছে প্রবাসে একটুকরো ঝিনেদার স্বাদ এমনই মন্তব্য উপস্থিত সকলের। পিঠা মেলার এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজনে উপস্থিত না থাকতে পেরে অনেকেই গভীর দুঃখ ও অপারগতা প্রকাশ করেন। আগামী গ্রীষ্ম কালে পিকনিক সহ বছর জুড়ে নানা রকম আয়োজনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

৩১ দিনে ১৩০০ মিলিয়ন ডলার পাঠাল প্রবাসীরা

বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে প্রবাসীদের অবদান কোন অংশে কম নয়। তাদের আয়ে চলে হাজার হাজার পরিবার। তাদের আয়ের অংসে দেস হচ্ছে দরিদ্রমুক্ত, হচ্ছ স্বছল।

২০১৭ সালের মাচ মাসে প্রবাসীরা দেশে ১,০৭৭.৫২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ১,৩০০.৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছে তারা। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এই আয় ২২২.৯৪ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বিস্তারিত…

যে প্রাণীর জন্য সালমান খানের জেল

দুইটি হরিণ হত্যা করেছিলেন সালমান খান। প্রজাতির নাম কৃষ্ণসার। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এদের শরীরের রং বদলায়। জন্মের সময় রং থাকে বাদামী। ঠিক চার মাস শরীরের ওপরের চামড়ার রং হয়ে যায় কালো। শিং ওপরের দিকে উঠে গেছে, প্যাঁচানো।

ভারতের যোধপুরের বিশনয় সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার অত্যন্ত পবিত্র। কৃষ্ণসার রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয় ওই সম্প্রদায়ের মানুষ! তবে সংখ্যায় কমতে কমতে দুর্লভ প্রাণীর তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে কৃষ্ণসার।

১৯৯৮ সালে যোধপুরে সিনেমার শ্যুটিং করতে গিয়ে দুইটি কৃষ্ণসারকে গুলি করেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান। ওই গুলির আওয়াজ পায় স্থানীয় বিশনয় সম্প্রদায়ের মানুষ। যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও। বিশ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হয় সালমান খানের। রায় ঘোষণার পরই তাঁকে যেতে হয়েছে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।

২০ বছর ধরে ন্যায়বিচার আশা করছিলেন বিশনয় সম্প্রদায়ের মানুষ। কারণ কৃষ্ণসার তাঁদের কাছে ‘পবিত্র বস্তু’। এছাড়া প্রাণিহত্যার বিরুদ্ধেও ওই সম্প্রদায় কাজ করে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, কৃষ্ণসারের দেখা মেলে কেবল ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে। দেখতে অসাধারণ ওই হরিণটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের ‘স্টেট অ্যানিমেল।’

যোধপুরের বিশনয় সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, তাঁদের ধর্মীয় গুরু জামবেশ্বরের পুনর্জন্ম হয়েছে। তিনি কৃষ্ণসার রূপে আবার ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। ১৪৫১ সালে জামবেশ্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২৯টি রীতির কথা বলেন। তাঁর অনুসারীদের বিশনয় বলা হয়। স্থানীয় ভাষা অনুযায়ী বিশ মানে হচ্ছে ২০ আর নয় মানে ৯ অর্থাৎ ২৯।

ওই ২৯ রীতির মধ্যে আছে সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা, নারী অধিকার রক্ষা করা, প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন, বণ্যপ্রাণী রক্ষা করা। প্রকৃতিরক্ষা এবং বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের ব্যাপারে বিশনয় সম্প্রদায়ের পরিচিতিও আছে অনেক।

ধর্মীয় কারণেই বিশনয় সম্প্রদায় চায় বনে বেড়ে যাক কৃষ্ণসারের সংখ্যা। দল বেঁধে খোলা সবুজ প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে কৃষ্ণসার।

তবে শিকার আর বনভূমি কমে যাওয়ার কারণে ভারতে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে কৃষ্ণসারের সংখ্যা।

১৯৯৮ সালে সালমান খান, সাইফ আলী খান, টাবু, নীলম ও সোনালি বেন্দ্রে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শ্যুটিংয়ে যোধপুর গিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, শ্যুটিং চলাকালীন ১ ও ২ অক্টোবর রাতে দুই জায়গায় সালমান খান কৃষ্ণসার শিকার করেন। ওই সময় বিশনয় সম্প্রদায়ের মানুষ কাঙ্কানি গ্রাম থেকে সেই হরিণ শিকারের গুলির শব্দ শুনতে পান।

এমনকি সালমান খানকে জিপসি নিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখেন তাঁরা। সালমানের খানের বিরুদ্ধে কাঙ্কানি গ্রামের বাসিন্দারাই মূল অভিযোগ তোলেন।

রিয়াদে প্রবাসী সংগঠনের দ্বিবার্ষিক সভা

 স্থানীয় সময় শনিবার রিয়াদের বারসোতাজ কমিউনিটি সেন্টারের হলঘরে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৌদি আরব সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবুল বশির।

বসন্তের রূপ

বিস্তারিত…

অসহায় এক প্রবাসীর গল্প

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ভেতর এক কোনে হুইল চেয়ারে বসে শুধু চোখের পানি ফেলছেন মাইনুল ইসলাম (৪০) নামে  এক  বাংলাদেশি। তার বোবা কান্না যেনো দেখার কেউ নেই!দূর থেকে অসহায় এ মানুষকে দেখে এগিয়ে আসেন সেই সময় সরকারি কাজে বিমানবন্দরে থাকা মালয়েশিয়াস্থ  বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী মোকসেদ আলি ও মিরান লস্কর নামে এক প্রবাসী।বিস্তারিত…

অসহায় শিশু হৃদরোগীদের পাশে মুনতাদা এইড

lh-pic 2

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমইচ)ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সহয়োগীতায় হৃদরোগে আক্রান্ত গরীব ও অসহায় শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে আন্তর্জাতিক চ্যারিটি বা মানবিক সাহায্য সংস্থা মুনতাদা এইড। মুনতাদা এইডের বিশ্ব বরেণ্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সদের সমন্ময়ে গঠিত চ্যারিটি টিম ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এ কার্যক্রমের আওতায় মুনতাদা এইড এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ সহগ্র অপারেশন সহ বিশ্বব্যাপি প্রায় ২ সহগ্রাধিক গরীব শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হৃদরোগের জটিল অপারেশন ও চিকিৎসা প্রদান করেছে। রোগীর অপারেশন, হাসপাতাল খরচ ও ঔষধ সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল খরচ বহন করেছে মুনতাদা এইড। সেইসাথে তার পরিবারকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মুনতাদা এইডের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ টিম বাংলাদেশী চিকিৎসক ও নার্সদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম করে তুলছে। যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ মূখী প্রবণতা কমিয়ে জটিল অপারেশন পরিচালনায় স্থানীয় চিকিৎসক দল সফলতা অর্জন করতে পারে। মুনতাদা এইড ২০১৪ ও ২০১৫ এই দুই বছরে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিজ খরচে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের দ্বারা পরিচালনা করেছে ২৫৬ টি হার্টের অপারেশন। আর ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হসপাতালে গরীব হার্টের শিশুদের বিনা মূল্যে অপারেশন ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। বর্তমানে মুনতাদা এইড ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। যেখানে সল্প খরচে গরীব ও অসহায় হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান জটিল অপারেশন পরিচালনা সহ সকলপ্রকার হার্টের চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে এই রোগের হার দ্বিগুনেরও বেশি। ঢাকা সিএমএইচ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি হাজারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু রয়েছে যারা জটিল সব হৃদরোগে আক্রান্ত। আর জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগেরও বেশি শিশু দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত। মায়েদের পরিমিত নিউট্রেশনের অভাব, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, পারিবারিক সমস্যা, দুঃশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারনে জন্ম নেয়া শিশুদের একটা বড় অংশ হার্টের অসুস্থতা নিয়ে প্রতিবছর জন্ম গ্রহন করে। এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল ও জটিল হওয়ায় এ শিশুদের অধিকাংশই বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। ইউনিসেফের হিসেব মতে, পৃথিবীতে প্রতিদিন জন্ম নেয় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ্য শিশু। যাদের মধ্যে এক শতাংশ বা প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু পৃথিবীতে আসে হার্টের জটিল সব সমস্যা নিয়ে। পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সঠিক পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুরা ফিরে পায় তাদের স্বাভাবিক জীবন। বেড়ে উঠতে পারে আর পাচ‘জন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মত। কিন্তু অনুন্নত দেশগুলোতে এমন সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় প্রতিটি শিশুই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে সল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মুনতাদা এইড এ সকল মানুষের কল্যানে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
বিশ্বের বৃহৎ মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোর মধ্যে মুনতাদা এইড অন্যতম। বৃটেন ভিত্তিক এ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩২ বছর ধরে আর্তমানবতার সেবায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে চলেছে। মুনতাদা এইড তাদের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রজেক্ট লিটিল হার্টের কারনে ২০১৫ সালে লাভ করেছে বৃটেনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ থার্ড সেক্টর এ্যাওয়ার্ড পদক। মুনতাদা এইড ১৪ টি দেশের ৬০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্পন্নয়ে গঠন করেছে উন্নতমানের মেডিক্যাল টিম। এ টিমের একমাত্র উদ্যেশ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গিয়ে অসহায় হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদেরকে সেবা প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্থানীয় সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা। বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত অথবা হার্টের অসুখ নিয়ে জন্ম নেয়া দরিদ্র পরিবারের শিশুদের কে সেবা দিতে মুনতাদা এইড বদ্ধ পরিকর। এরই ধারাবাহিকতায়, অর্থের অভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারা পরিবারের সদস্যরা অথবা স্থানীয় ডাক্তাররা ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমইচ) ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সাথে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করলে তারা রোগির অবস্থা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবলম্বনের মাধ্যমে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। জাকাতের টাকা নেয়ার মত রোগীদেরকেই কেবল মাত্র বিনা অর্থ খরচে এ সেবা প্রদান করা হয়। ডাক্তার অথবা হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাদের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় করে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অথবা সামান্য অর্থ দানের মাধ্যমে এ সেবা প্রদান করবেন।
মুনতাদা এইড বিশ্বাস করে, দারিদ্রতা হ্রাস, স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং শিক্ষা লাভের সুযোগ সমাজ উন্নয়নে অত্যাবশ্যক। শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ থেকে বিভাজন কমিয়ে সকলকে একত্রিত করার মত আকর্ষনীয় ও ভিন্নধর্মী কর্মপরিকল্পনার কারনে মুনতাদা এইড অন্য সকল চ্যারিটি বা এনজিও থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা যুদ্ধ বিগ্রহ যেখানেই মানবতার বিপর্যয় ঘটেছে মুনতাদা এইড জরুরী সাহায্য নিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে সেখানে পৌচ্ছেছে, দাড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষের পাশে। সেইসাথে তাদের দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারনকে সাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করেছে। এছাড়াও আফ্রিকার দরিদ্র পিড়িত দেশগুলোতে শিক্ষা, জরুরী সেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ দীর্ঘ দিন যাবৎ মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে মুনতাদা এইড। বাংলাদেশী বংশদ্ধুত চ্যারিটি বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদের নেতৃত্বে মুনতাদা এইডের অভিজ্ঞ ও দক্ষ টিম বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে কাজ করছে। সেইসাথে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরনার্থীদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষন ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সাধারন মানুষের সহায়তাকে সাথে নিয়ে বিশ্বকে অভাবমুক্ত ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলাই মুনতাদা এইডের মূল উদ্যেশ্য।

ইতালিতে তিন সাংসদকে সংবর্ধনা

ইতালি আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রোম সফররত তিন সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী রোমের তরপিনাত্তারাস্থ সুন্দরবন রেষ্টুরেন্টের হলরুমে ইতালি আওয়ামী লীগের  ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলি আহাম্মদ ঢালীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক হাসান ইকবালের পরিচানায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।বিস্তারিত…

প্রবাসে রোজার দিন

দিন যায়, পৃথিবী ঘোরে, প্রতি বছর রমজান মাস আসে আবার দেখতে দেখতে চলেও যায়।

রোজার মাস সাধারণত একটা উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে সেই শবে বরাতের রাত থেকে শুরু করে, চোখে দৃশ্যমান থাকে আসন্ন ইদের হাতছানি। বাংলাদেশে থাকতে উৎসবের সেই আমেজটা বাতাসে ভেসে বেড়াত বেশি। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কাজের সময়কে বদল করে মানুষের রোজা থাকাটাকে সহজ করে দেওয়া হয়। এখানে বিদেশে আলাদাভাবে রোজার মাসের কোনো বিচিত্রতা নেই। ছকে বাঁধা সময়, রোজা সেই সময়ের সঙ্গে মানিয়েই চলে, জীবনকে ধীর গতি করে নয়।বিস্তারিত…

কবিতা গানে সিঙ্গাপুরে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

স্বরচিত কবিতা ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কেয়ার ও সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত বাংলার কণ্ঠ পত্রিকার দিবাশ্রম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আজ (২৬ মার্চ) রোববার সকাল এগারোটায় মেরিনা বে স্যান্ডসের ফ্লাওয়ার বিল্ডিংয়ের আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স মিউজিয়ামের চতুর্থ তলায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বিস্তারিত…

শিরোনাম