আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে ক্যামেরা বসালো ইসরায়েল

জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রবেশের মুখে ক্যামেরা বসিয়েছে ইসরায়েল।

মুসলমানদের কাছে হারাম আল-শরিফ এবং ইহুদিদের কাছে টেম্পেল মাউন্ট নামে পরিচিত পবিত্র এই জায়গাটিতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের মধ্যেই সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলো।

এর আগে এক হামলায় দু’জন ইসরায়েলি পুলিশ নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল সেখানে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়েছিলো যার তীব্র প্রতিবাদ করে আসছে ফিলিস্তিনি মুসলিমরা।

এখানে দুজন ইসরায়েলি পুলিশ নিহত হবার পর থেকেই এই নিরাপত্তা বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো শুরু হয়।বিস্তারিত…

২৪ এপ্রিল পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ আগামী ২৪ এপ্রিল সারা দেশে পালিত হবে। বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিস্তারিত…

ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য পুলিশের নির্দেশনা

আগামী ১৩-১৫ জানুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৫ দিন বিরতি দিয়ে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে ইজতেমা। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য আগত মুসল্লিদের কিছু নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানানো হয়।বিস্তারিত…

১২ অক্টোবর পবিত্র আশুরা

বাংলাদেশের আকাশে রোববার (০২ অক্টোবর) ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে সোমবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মহররম ১৪৩৮ হিজরি বুধবার (১২ অক্টোবর) সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাফিজ উদ্দিন।

সভায় প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব সাইদুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব ড. আলফাজ হোসেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অতিরিক্ত পরিচালক(প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াকফ প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ- পরিচালক আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও শাহ আলম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মজিবর রহমান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া খবর পাওয়া গেছে। ফলে ৩ অক্টোবর থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেহেতু ১০ মহররম অর্থাৎ ১২ অক্টোবর (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

সুত্রঃ নতুনখবর।

ইথিওপিয়ায় ধর্মীয় উৎসবে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ৫২ জন নিহত

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে ধর্মীয় এক উৎসব চলার সময় বিক্ষোভের ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে মাত্র ২৫ মাইল দূরে বিশোফটু এলাকায় ধর্মীয় একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববারের উৎসবে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ “স্বাধীনতা চাই” এবং “ন্যায় বিচার চাই” বলে শ্লোগান দিতে থাকে।

বিক্ষোভকারী জনতাকে দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। সেইসাথে লাঠিপেটা করে তাদের হটানোর চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় পায়ের চাপায় পিষ্ট হয়ে অনেকে প্রাণ হারায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়।

এছাড়া বিক্ষোভের সময়কার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বহু মানুষের এক সমাগম ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী হেইলে মারিয়াম ডেসালেন দাবি করেছেন, দাঙ্গা সৃষ্টিকারীরা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি সাধারণ মানুষকে রক্ষার ‘মহৎ চেষ্টার জন্য’ নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রাণহানির জন্য অশুভ শক্তিকে দোষারোপ করেন। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী।

কোনও কোনও খবরে বলা হয়, সরকার বিরোধীরা পাথর ও বোতল ছুঁড়ে মারে। তবে অন্যান্য অনেক মাধ্যমে বলা হয় শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব চলছিল।

অরোমোর একজন বিরোধী কর্মীর বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে অন্তত ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে অরোমিয়া এবং আমহারা প্রদেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা।

‘মাংস’, ‘মাংশ’ নাকি ‘গোশত’ : চলমান বিতর্কের অবসান

মাংস’কে ‘মাংশ’ কিংবা ‘গোশত’ কোনটা বলাই না জায়েয নয়। এক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো, “আল-আসলু আল-ইবাহা” অর্থাৎ মূল হলো বৈধতা। মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে অর্থাৎ আকীদা বা ইবাদাত নয় এমন সকল ক্ষেত্রে মূল হলো সবকিছু বৈধ।

কিছুদিন যাবত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ও বিভিন্ন বক্তার বক্তৃতায় মাংস বলা জায়েয কিনা প্রশ্নে তুমুল বিতর্ক চলছে। সেই প্রেক্ষাপটেই কিছু মন্তব্য….

০১. যারা “প্রাণীর দেহের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী শরীরের অংশবিশেষ”কে ‘মাংস’ না বলে ‘গোশত’ বলতে চান তাদের উদ্দেশ্য ভালো বলেই মনে হয়। তারা ইসলামী স্বাতন্ত্রিকতাকে বজায় রাখতে ও সম্ভব্য শাব্দিক অপসংস্কৃতির ছোবল থেকে বাঁচতে চাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য যেহেতু সৎ (ইতিবাচক ধারণা থেকে ধরে নিচ্ছি) সেহেতু তাদের সমালোচনা করা বা তাদেরকে কটাক্ষ করা আমার উদ্দেশ্য নয়।

০২. যারা ‘মাংস’ শব্দ বলা উচিত-অনুচিতের প্রশ্নটিকে জায়েয-না জায়েযের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তারা কোন গ্রহণযোগ্য দলীল, সেটি কুর’আন, হাদীস, ইজমা, ইজতিহাদ থেকে হোক কিংবা আকল অর্থাৎ যুক্তি থেকে হোক, দেননি এবং দিতে আগ্রহ বোধ করছেন না। অথচ ইসলামে কোন কিছু জায়েয-না জায়েয হতে হলে তার পক্ষে-বিপক্ষে প্রমাণ-যুক্তি লাগবে। প্রমাণহীন কোন বক্তব্য গ্রহণ করতে কোন মুসলিম বাধ্য নয়।

০৩. বাংলা ভাষায় ব্যবহারিত শব্দগুলো উৎপত্তিগতভাবে ৫ প্রকার। ১. তদ্ভব, ২. তৎসম, ৩. অর্ধ তৎসম, ৪. দেশি এবং ৫. বিদেশী। ‘মাংস’ শব্দটি উপরোল্লিখিত কোন প্রকার থেকে এসেছে তা জানা এক্ষেত্রে জরুরি। বাংলা অভিধানগুলো ঘেঁটে আমি যতটুকু জেনেছি, তা হলো ‘মাংস’ শব্দটির উৎস হচ্ছে সংস্কৃত (মন + স) থেকে।

০৪. ‘মাংস’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে আসলেও এটি কোন কালেই ‘মাংশ’ বানানে ছিলো না। আমার দেখা সকল বাংলা অভিধানেই শব্দটির বানান ‘মাংস’ লেখা হয়েছে। (দেখুনঃ ঢাকার বাংলা একাডেমী (জানুয়ারী, ২০১১) প্রকাশিত ‘ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’-এর ৯৬৮ পৃ.; কলকাতার সাহিত্য সংসদ (অক্টোবর, ২০০৭) প্রকাশিত ‘সংসদ বাংলা অভিধান’-এর ৬৯৩ পৃ.; কলকাতার এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লি. (ত্রয়োদশ সংস্করণ, ১৩৮৯) প্রকাশিত আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান ‘চলন্তিকা’ -এর ৫৮২ পৃ.।) তাহলে আমরা ‘মাংস’ শব্দের বানান ‘মাংশ’ পেলাম কোথায়?

০৫. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী ও স্বরোচিষ সরকার সম্পাদিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’, কলকাতার সাহিত্য সংসদ প্রকাশিত ও শৈলেন্দ্র বিশ্বাস সংকলিত ‘সংসদ বাংলা অভিধান’ ও কলকাতার এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লি. প্রকাশিত ও রাজশেখর বসু সংকলিত ‘চলন্তিকা’, কোথাও ‘মাংশ’ বানানে কোন শব্দ নেই।

০৬. বাংলা একাডেমি ‘মাংস’ শব্দের অর্থ লিখেছে, ‘প্রাণীর দেহের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী শরীরের অংশবিশেষ’। (৯৬৮ পৃ.) শৈলেন্দ্র বিশ্বাস ‘মাংস’ শব্দের অর্থ লিখেছেন, ১. ‘জীবদেহের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী কোমল অংশবিশেষ’; ২. ‘মানুষের ভোজ্য মনুষ্যেতর প্রাণীর আমিষ বা পলল’। (৬৯৩ পৃ.) রাজশেখর বসু ‘মাংস’ শব্দের অর্থ লিখেছেন, ‘পশু মনুষ্যইঃর দেহের চর্ম ও অস্থির মধ্যবর্তী কোমল অংশ পিশিত’। (৫৮২ পৃ.) উপরোল্লিখিত অর্থসমূহ ছাড়া অন্য কোন অর্থ এসব অভিধানে লেখা হয় নি।

০৭. ‘মাংস’ শব্দের বানান ‘মাংশ’ লিখে যারা ‘মায়ের (গরুর) অংশ’ ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ (!) করেন তারা বাংলা ব্যকরণের কোন নিয়মে তা করেন তা আমার বুঝে আসে না। আমার জানা মতে বাংলা ব্যকরণের কোনো নিয়মেই এই সন্ধিবিচ্ছেদ ও ব্যাসবাক্য গ্রহণযোগ্য নয়।

০৮. বাংলা ভাষার কোনো বিশেষজ্ঞ (হিন্দু কিংবা মুসলিম) ‘মাংস’কে তথাকথিত ‘মাংশ’ শব্দের অপভ্রংশ বা পরিবর্তিত রূপ বলে আখ্যায়িত করে তাকে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত কোন শব্দ বলে উল্লেখ করেন নি, যেমনটা করেছেন কীর্তন বেদী, স্নাতক, আচার্য, উপাচার্য, বিশ্বভ্রম্মাণ্ড ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে। তাহলে কেন মাংসকে মাংশ ভেবে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে? বিস্তারিত জানতে ও প্রমাণ পেতে বাংলাভাষার যে কোন অভিধানে এই শব্দগুলোর অর্থ ও সংশ্লিষ্ট আলোচনা দেখুন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাসজাত কিন্তু বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট’ জানতে পড়তে পারেন সালেহুদ্দীন জহুরী’র লেখা ‘শব্দ সংস্কৃতির ছোবল’ বইটি।

০৯. অনেকেই ‘মাংস’কে ‘গোশত’ বলতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু বাংলা ‘মাংস’ শব্দ বাদ দিয়ে ফার্সী শব্দ ‘গোশত’ (ফার্সী গাফ লিখতে পারছি না।) শব্দের প্রতি এতো আগ্রহের কারণ কী তা আমি জানি না। তবে কেউ যদি ফার্সীকে ইসলামী ভাষা আর বাংলাকে অনৈসলামিক ভাষা বলে ভাবেন এবং মনে করেন, এবং সেই ভেবে ‘গোশত’ বলতে উৎসাহিত করেন তাহলে ভুল করবেন। কারণ আল্লাহর নিকট কোন ভাষাই খারাপ বা পরিত্যাজ্য নয়। ফার্সীর প্রতি এতো আগ্রহ কেনো? বেশি আগ্রহ থাকা উচিত আরবীর প্রতি। এর অনেক কারণ আছে। সে হিসাবে মাংসকে “লাহম” বলা উচিত। আমরা কি সেটি বলবো?

১০. তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে, ‘মাংস’ দ্বারা হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী মা (গরু)-এর অংশ বুঝাচ্ছে, তাহলে শুধু গাভীর মাংসকে গোশত বলতে হবে। অন্যগুলোর যেমন ছাগল, খাসি, মুরগী ইত্যাদির ‘গোশত’কে কি মাংস বলতে দোষ হবে?

মোটকথা, আমার এখন পর্যন্ত স্টাডি অনুযায়ী ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ কিংবা ‘গোশত’ কোনটা বলাই না জায়েয নয়। এক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো, “আল-আসলু আল-ইবাহা” অর্থাৎ মূল হলো বৈধতা। মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে অর্থাৎ আকীদা বা ইবাদাত নয় এমন সকল ক্ষেত্রে মূল হলো সবকিছু বৈধ। যতক্ষণ না তা হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল পাওয়া যায়। তবে ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ বললে এবং বিশ্বাস করলে সমস্যা হতো। যা কোন মুসলিম তো করেই না এমন কি কোন হিন্দুও করে না। কারণ আসলে বাংলায় ‘মাংশ’ বানানে কোন শব্দই নেই। তাহলে কেন এই আজগুবি ব্যাখ্যা? আমি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র নই, তাই ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। গঠনমূলক সমালোচনা ও সংশোধনী কাম্য। তবে আবেগ দিয়ে নয়, দলীল ও বিবেক দিয়ে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা জরুরি। নয়তো এই সব সামান্য বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে আরও বড় গুনাহে আমরা লিপ্ত হয়ে যেতে পারি। ইসলামী আকীদা ও সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক এমন শব্দ, তা বাংলা ভাষার হোক বা অন্য কোন ভাষার হোক, তা বর্জন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।

শাহাদাৎ হুসাইন খান ফয়সাল
গবেষক, হায়ার ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, উত্তরা, ঢাকা।
ইমেইল : [email protected]

‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম (দয়া) করে না

বিশ্বজগতের সবকিছু মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তার সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র তার প্রতিনিধি। অন্যসব সৃষ্টিকে মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের পরস্পরের প্রতি যেমন দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তেমনি অন্যান্য সৃষ্টির প্রতিও মানুষের দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। তাই সৃষ্টির সেবায় যত্নবান হওয়া একান্ত কর্তব্য। সৃষ্টির সেবা মহান আল্লাহর করুণা লাভের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম (দয়া) করে না।’ হাদিসে আছে, সেই ব্যক্তি প্রকৃত ইমানদার নয়, যে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে না। খেদমতে খালক দ্বারা সদকা সমপরিমাণ পুণ্য লাভ করা যায়। শুধু মানুষই নয়, যে কোনো প্রাণীর ওপর করুণা করলে এর প্রতিদান মিলবে।

বিস্তারিত…

জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া নামাজের জামাতে শামিল না হওয়ার সুযোগ নেই। রসুল (সা.) জামাতে নামাজ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তা বাধ্যবাধকতার শামিল।  হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘আজান শোনার পর কোনো ওজর না থাকা সত্ত্বেও যে লোক নামাজের জামাতে শামিল হয় না, তার ঘরে বসে একাকী পড়া নামাজ মঞ্জুর হবে না।’ জানতে চাওয়া হলো, ইয়া রসুলুল্লাহ! ওজর বলতে কি বোঝায়? তিনি বললেন, ‘বিপদাশঙ্কা অথবা রোগব্যাধি।’— আবু দাউদ, ইবনে হেব্বান ও ইবনে মাজা। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে আল্লাহপাক অভিশাপ দিয়েছেন : (১) যে লোক জনগণের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের নেতা হয়ে বসে (২) যে নারী তার ওপর স্বামী অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাতযাপন করে (৩) নামাজের আজান ও কল্যাণের আহ্বান শুনেও যে লোক জামাতে শামিল হয় না।’ —হাকেম। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘মসজিদের প্রতিবেশীর নামাজ মসজিদ ছাড়া দুরস্ত হবে না।’ প্রশ্ন করা হলো : মসজিদের প্রতিবেশী কে? তিনি বললেন, ‘বাড়িতে বসে যে আজান শুনতে পায়।’— মুসনাদে আহমদ। বোখারি শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন : ‘কেয়ামতের দিন যে লোক মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দিদার লাভ করতে চায়, সে যেন প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। কেননা মহান আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য দেহায়েতের বিধানাবলি প্রবর্তন করে দিয়েছেন। আর এ নামাজগুলো হচ্ছে হেদায়াতের অন্যতম পন্থা। অনেকের মতো তোমরাও যদি আপন গৃহে বসে নামাজ পড়, তবে তোমাদের নবীর পথ ছেড়ে দিলে। আর তোমরা যদি নবীর পথ বর্জন কর, তবে গোমরাহীতে নিপতিত হবে। আমার জানা মতে, মুনাফিক বা অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া কেউ জামাতে শামিল হতে পিছপা হয় না। অথচ যে লোক দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে কাতারে দাঁড়ায় অথবা মসজিদ পর্যন্ত আসে, অবশ্যই সে জামাতে নামাজের জন্য আসে।’ পক্ষাঘাত রোগে অসুস্থ রবী বিন খায়সাম দুই লোকের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এসে জামাতে শামিল হতেন। তাকে বলা হতো, আপনি তো মাজুর, আপনার ঘরে বসে নামাজ পড়া তো বৈধ। তিনি বলতেন, ‘তা কীভাবে হয়? আমি তো নামাজের আহ্বান শুনতে পাই। কাজেই যার সাড়া দেওয়ার সামর্থ্য আছে, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাকে তাতে সাড়া দিতেই হবে।’ ইসলামের সোনালি যুগের কোনো কোনো বুজুর্গ বলতেন, নামাজের জামাত ছুটে যাওয়া, পাপের কারণে হয়ে থাকে। হজরত ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় আছে, একবার হজরত ওমর (রা.) তার এক দেয়ালঘেরা খেজুর বাগান দেখতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন, আসর নামাজের জামাত শেষ হয়ে গেছে। তিনি তত্ক্ষণাত জামাত ছুটে যাওয়ার কাফফারা স্বরূপ খেজুর বাগানটি দরিদ্রদের মাঝে সদকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

সংশোধিত হল হজ যাত্রিদের পাথর নিক্ষেপের সময়সূচি

শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা প্রতিটি মুসলিম হজ যাত্রির কাছে পবিত্র হজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত বছর এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে নিহত হন কমপক্ষে ২২৩৬ জন হজযাত্রী।বিস্তারিত…

কোরবানির ইতিহাস

‘কোরবানি শব্দটি আরবি। যার অর্থ উৎসর্গ, উপঢৌকন, সান্নিধ্য লাভের উপায়। মানুষ যা কিছু আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে তাকে কোরবান বলে। কোরবানি হজরত আদম (আ.)-এর জামানায়ও চালু ছিল। পরবর্তী সব নবীদের জামানায়ও কোরবানির প্রথা অনুসৃত হয়েছে।বিস্তারিত…

শিরোনাম