যে প্রাণীর জন্য সালমান খানের জেল

দুইটি হরিণ হত্যা করেছিলেন সালমান খান। প্রজাতির নাম কৃষ্ণসার। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এদের শরীরের রং বদলায়। জন্মের সময় রং থাকে বাদামী। ঠিক চার মাস শরীরের ওপরের চামড়ার রং হয়ে যায় কালো। শিং ওপরের দিকে উঠে গেছে, প্যাঁচানো।

ভারতের যোধপুরের বিশনয় সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার অত্যন্ত পবিত্র। কৃষ্ণসার রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয় ওই সম্প্রদায়ের মানুষ! তবে সংখ্যায় কমতে কমতে দুর্লভ প্রাণীর তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে কৃষ্ণসার।

১৯৯৮ সালে যোধপুরে সিনেমার শ্যুটিং করতে গিয়ে দুইটি কৃষ্ণসারকে গুলি করেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান। ওই গুলির আওয়াজ পায় স্থানীয় বিশনয় সম্প্রদায়ের মানুষ। যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও। বিশ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হয় সালমান খানের। রায় ঘোষণার পরই তাঁকে যেতে হয়েছে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।

২০ বছর ধরে ন্যায়বিচার আশা করছিলেন বিশনয় সম্প্রদায়ের মানুষ। কারণ কৃষ্ণসার তাঁদের কাছে ‘পবিত্র বস্তু’। এছাড়া প্রাণিহত্যার বিরুদ্ধেও ওই সম্প্রদায় কাজ করে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, কৃষ্ণসারের দেখা মেলে কেবল ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে। দেখতে অসাধারণ ওই হরিণটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের ‘স্টেট অ্যানিমেল।’

যোধপুরের বিশনয় সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, তাঁদের ধর্মীয় গুরু জামবেশ্বরের পুনর্জন্ম হয়েছে। তিনি কৃষ্ণসার রূপে আবার ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। ১৪৫১ সালে জামবেশ্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২৯টি রীতির কথা বলেন। তাঁর অনুসারীদের বিশনয় বলা হয়। স্থানীয় ভাষা অনুযায়ী বিশ মানে হচ্ছে ২০ আর নয় মানে ৯ অর্থাৎ ২৯।

ওই ২৯ রীতির মধ্যে আছে সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা, নারী অধিকার রক্ষা করা, প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন, বণ্যপ্রাণী রক্ষা করা। প্রকৃতিরক্ষা এবং বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের ব্যাপারে বিশনয় সম্প্রদায়ের পরিচিতিও আছে অনেক।

ধর্মীয় কারণেই বিশনয় সম্প্রদায় চায় বনে বেড়ে যাক কৃষ্ণসারের সংখ্যা। দল বেঁধে খোলা সবুজ প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে কৃষ্ণসার।

তবে শিকার আর বনভূমি কমে যাওয়ার কারণে ভারতে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে কৃষ্ণসারের সংখ্যা।

১৯৯৮ সালে সালমান খান, সাইফ আলী খান, টাবু, নীলম ও সোনালি বেন্দ্রে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শ্যুটিংয়ে যোধপুর গিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, শ্যুটিং চলাকালীন ১ ও ২ অক্টোবর রাতে দুই জায়গায় সালমান খান কৃষ্ণসার শিকার করেন। ওই সময় বিশনয় সম্প্রদায়ের মানুষ কাঙ্কানি গ্রাম থেকে সেই হরিণ শিকারের গুলির শব্দ শুনতে পান।

এমনকি সালমান খানকে জিপসি নিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখেন তাঁরা। সালমানের খানের বিরুদ্ধে কাঙ্কানি গ্রামের বাসিন্দারাই মূল অভিযোগ তোলেন।

You might also like

Leave a Reply

শিরোনাম