এক বছরে ৫৯৩ শিশু ধর্ষিত

দেশে গত এক বছরে ৫৯৩ জনেরও বেশী শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। এছাড়াও শিশু ধর্ষণের পর তাকে হত্যা, ধর্ষিত শিশুর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু।

বুধবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ এক মানববন্ধনে বক্তরা এ সব তথ্য তুলে ধরেন। শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এ মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাইনুন হাসান তড়িৎ বলেন, ‘দেশে গত এক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা। শুধুমাত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে গত এক বছরে ৫৯৩ জনেরও বেশী শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। এছাড়াও শিশু ধর্ষণের পর তাকে হত্যা, ধর্ষিত শিশুর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু। এ সকল ধর্ষণের ঘটনায় ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।’

তিনি বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।’

শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে মানববন্ধন থেকে তিনি সরকারের কাছে নিম্নোক্ত ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন-

১। শিশু ধর্ষণের বিচার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে শেষ করতে হবে এবং ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক এবং একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
২। ধর্ষকের পরিচয় গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
৩। শিশুদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। ধর্ষিতার পরিবারের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তায় নিশ্চিত করতে হবে।
৫। ধর্ষকের বিচার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা পরিচালনা করতে হবে।
৬। প্রমাণ সাপেক্ষে দেশের কোনও আদালতে কোনও আইনজীবী যেন ধর্ষকের পক্ষে আইনি লড়াই না করেন।
৭। যারা ধর্ষকের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা নামমাত্র অর্থমূল্যে মীমাংসা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
৮। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে এবং সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
৯। ধর্ষিতার সুন্দর শৈশব এবং ধর্ষিতার পরিবার যেন সমাজে হেয় প্রতিপন্ন না হয় তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
১০। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ বন্ধে সচতেনতামূলক আলোচনা এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

মানববন্ধনে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে একাত্বতা প্রকাশ করেন।

You might also like

Leave a Reply

শিরোনাম