যে ৫ টি বিষয় আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে

অনেক সময়ই আমরা আমাদের লাইফ নিয়ে ফ্রাসট্রেটেড হয়ে পরি এবং নিজেদের যোগ্যতা, পটেনশিয়াল এবং কনফিডেন্স নিয়ে অনেক হীনমন্যতায় ভুগি। আসলে আমাদের পটেনশিয়াল বা ক্ষমতা অনেক বেশী, আমরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে পারার ক্ষমতা হবে সীমাহীন। অনেকগুলো উপায়ের মাঝে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি ৫ টি উপায় যার মাধ্যমে আমরা নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারব।

১। নিজের সাথে নিজের তুলনা করুনঃ

আমরা সকলেই প্রায় ডিমোটিভেটেড হয়ে পরি। ঘুম থেকে উঠে অফিস যেতে মন চায় না, কাজ করতে ভাল লাগেনা, ক্লাস বা কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ কাজ করেনা। তখন একবার ভেবে দেখবেন যে, আপনার কোন গোলগুলো এখনও অর্জন বা অ্যাচিভ করা হয়নি। হতে পারে এটা নতুন কিছু শেখা, নিজের পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট এর জন্যে কিছু করা, চাকরি বা কর্মক্ষেত্রে প্রোগ্রেস করা, ফ্যামিলিকে আরও সময় দেয়া ইত্যাদি। সত্যি বলতে, যত আমরা এই তুলনাটি করব তত আমরা বুঝতে পারব আমাদের আরও কি কি অ্যাচিভ করা বাকি। আর এই লক্ষ্য অর্জনের আগ্রহের মাধ্যমেই নিজেদেরকে মোটিভেটেড রাখতে পারব। সুতরাং শত ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে সময় দিন, একটু ভাবুন যে কি করার কথা আর কি করছেন, একটু হলেও অনুপ্রেরণা পাবেন। এবং এই অনুপ্রেরনাই আপনাকে আরও বেশী আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

২। এমন কিছু করুন যা ভাল লাগেঃ  

আমাদের মতে হ্যাপিনেস হচ্ছে, যে কাজটা আমরা করতে ভালবাসি তা বার বার করা। আপনি যদি খুঁজে পেয়ে থাকেন যে কোন কাজটি আপনি সবচেয়ে ভালবাসেন, তাহলে দেখবেন সেই কাজ করে আপনি কখনও বোর হচ্ছেন না। ভেবে দেখুন তো,  যারাই তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অনেক সাকসেস পেয়েছে তারা কিন্তু ঠিকই তাদের কাজ কে ভালবাসে এবং তারা কাজের মধ্যে হ্যাপিনেস খুঁজে পান। তা নাহলে লেগে থেকে কাজ করে যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পরে। সুতরাং পার্সোনাল এবং কর্ম জীবনে যে কাজের মাধ্যমে আপনি মনের ভেতরে শান্তি পান সেটাই করুন। আপনার ভাল লাগার কাজটির প্রতি থাকবে আপনার অন্যরকম অনুপ্রেরণা, এবং অনুপ্রেরণাই যোগাবে আত্মবিশ্বাস। সুতরাং – যা ভালবাসেন, তাই করুন; যা করছেন সেটাকে ভালবাসুন।

৩। অজুহাত দেয়া কমিয়ে দিনঃ 

আমাদের হাত তিনটি। ডান হাত, বাম হাত এবং অজুহাত। যখন আমারা কোন কাজে আগাতে পারি না, বা লাইফ একটা জায়গায় স্টাক হয়ে যায়  তখন আমরা বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকি নিজের অবস্থাকে জাস্টিফাই করার জন্যে।আমরা ভুলে যাই, আমরা যত অজুহাত দিতে থাকি তত আমাদের নিজেদের ক্ষমতাকে হারিয়ে ফেলি। সুতরাং লাইফে এরকম অবস্থায় পরলে আগে ভাবুন আপনি নিজে কি করতে পারবেন এবং তা করুন। অন্যের ওপর, সমাজের ওপর, বাবা মার ওপর দোষ চাপালে সমস্যা সমাধান হবে না। বরং, নিজের জীবনের নেতৃত্ব নিন, অজুহাত না দিয়ে নিজের অবস্থা, কাজের গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। অজুহাত কমান, আত্মবিশ্বাস বাড়ান

৪। নিজের ভয়গুলোর মোকাবিলা করুনঃ

যদি আমরা ভাবি, বাইরে থেকে কোন কিছু এসে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবে, তাহলে আমরা বোকার স্বর্গে বাস করছি। আমাদের সমস্যাগুলো বন্ধ লিফটের মতো নয়, যে এটা থেকে বের হবার জন্য বাইরের সাহায্য লাগবে। বরং আমাদের সমস্যাগুলো হল থেমে থাকা এসকেলেটরের মতো। এর সমাধানের কাজটা আমাদেরই। বেশীর ভাগ সমস্যার সমাধান আমরা নিজেরাই করতে পারি। এজন্য শুধু আপনাকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং ভয়গুলোকে ফেস করতে হবে। যেমনঃ আপনার ভয় যদি হয় অনর্গল কথা বলা নিয়ে, তাহলে এই কথা বলার মাধ্যমেই আপনার ভয় কাটাতে হবে। সাঁতার না জানা পর্যন্ত যেমন পানির প্রতি সবার কিছুটা হলেও ভয় থাকে, তেমনি আমাদের ভয়গুলো মোকাবিলা না করলে ভয়ের গণ্ডির মাঝেই আটকে থাকব। ভয়গুলোকে জয় করার মাধ্যমেই আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

আমাদের উন্নতি, আমাদের ভয়ের ওপাশেই

৫। হাল না ছেড়ে লেগে থাকুনঃ 

আচ্ছা, এমনটা কতবার হয়েছে যে আপনি ব্যর্থ হয়ে ভেবেছেন এই কাজটা কখনোই করা সম্ভব না, ভেবে হাল ছেড়ে দিয়েছেন? কতবার আপনি কোন কাজ মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছেন দ্রুত কোন রেসাল্ট পাচ্ছিলেন না বলে? আপনি যদি কাজের সাথে সাথে কোন রেসাল্ট না পান , বা দিনের পর দিন ব্যর্থ হতে থাকেন , তবুও হাল ছেড়ে দেবেন না। কোনভাবেই না। হাল ধরে থেকে চেষ্টার পর চেষ্টায় বাড়বে আত্মবিশ্বাস, আসবে সফলতা। রোম শহর কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি, প্রতিদিন একটা একটা করে ইঁট গেঁথে তৈরি হয়েছে আজকের রোম

You might also like

Leave a Reply

শিরোনাম