সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ওষুধ নেই সরকারি হাসপাতালে

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিভেনাম) নেই। কেন্দ্রীয় ঔষধ ভান্ডারেও এই ওষুধের মজুত নেই। যা আছে, তা মেয়াদোত্তীর্ণ। কেন্দ্রীয়ভাবে কেনার কোনো উদ্যোগও নেই। সংকট মোকাবিলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধই ব্যবহারের কথা বলছেন একাধিক চিকিৎসক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে থেকে সেপ্টেম্বর—এই মাসগুলোতে সাপে কাটার ঘটনা ঘটে বেশি। এই সময়ে সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না থাকা দুঃখজনক। তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের একটি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। তবে ওই ওষুধ দোকানে পাওয়া যায় না, শুধু ডিপোতে পাওয়া যায়।

একটি গবেষণা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় সাত লাখ মানুষকে সাপে কামড়ায়। তাদের মধ্যে ছয় হাজারের কিছু বেশি মানুষ মারা যায়। তবে বিষধর সাপের কামড়ের হার ২০ শতাংশ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র বলেছে, গত সপ্তাহে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সাপ্তাহিক সভায় সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ না থাকার বিষয়টি আলোচনা হয়। ঢাকা মেডিকেলে ওই ওষুধ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অল্প কিছুদিন হলো অ্যান্টিভেনাম শেষ হয়েছে। ওষুধের জন্য সিএমএসডিতে (কেন্দ্রীয় ঔষধাগার) যোগাযোগ করেছি। সেখানেও ওষুধ নেই।’

সরকারের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের দেওয়া তেথ্য দেখা যায়, সম্প্রতি বন্যাকবলিত ১৯ জেলায় ২৫ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ১২০ জনকে সাপে কামড়ায়, এর মধ্যে ২৩ জন মারা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংখ্যা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা। প্রকৃত সংখ্যা এর অনেক বেশি।

যশোরের জলাবদ্ধ অভয়নগর ও মনিরামপুের গত এক মাসে সাপের কামড়ে সাতজন মারা যাওয়ার খবর প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে।

সাপের কামড় ও জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এম এ ফয়েজ। তিনি বলেন, সারা বছর প্রায় সাত লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হয়। এর মধ্যে ছয় হাজারের কিছু বেশি মানুষ মারা যায়। বর্ষাকালে ও বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ে, মানুষের বেশি মৃত্যু হয় এই সময়ে।

যোগাযোগ করলে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক (ভান্ডার ও সরবরাহ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. পারভেজ কবীর প্রথম আলোকে বলেন, দু-তিন মাস আগে অ্যান্টিভেনাম শেষ হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচি থেকে নতুন ওষুধ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ওষুধ কেনা হয়নি।

সাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং চিকিৎসার ওষুধ কেনার মূল দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচির। এই কর্মসূচির পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আগে কেনা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সব মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। তাই নতুন ওষুধ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তবে গতকাল সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন বলেন, তিনি এমন নির্দেশ পাননি। এই জেলায় বন্যা শুরু হওয়ার পর সাপের কামড়ে পাঁচজন মারা গেছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলেছে, দেশের একটি কোম্পানি অ্যান্টিভেনাম তৈরি করছে। তবে ওই ওষুধ দোকানে বিক্রি হয় না। ওই কোম্পানির একজন ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে তাঁদের ২০টি ডিপোতে এই ওষুধ পাওয়া যায়। একটি ভায়ালের দাম এক হাজার টাকা। চিকিৎসকেরা বলেছেন, একজন রোগীর ১০টি ভায়ালের প্রয়োজন হয়।

সূত্র বলেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পেয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি রংপুর থেকে অ্যান্টিভেনাম কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রংপুর ডিপো থেকে অ্যান্টিভেনাম কিনেছেন।’

দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার সদর হাসপাতালের মেডিসিনের একজন চিকিৎসক বলেছেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েও তাঁরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করার কথা ভাবছেন। এ বিষয়ে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কারণ, সরকারি ব্যবস্থার বাইরে ওষুধের দাম অনেক বেশি।

সূত্রঃ প্রথম আলো।

 

You might also like

Leave a Reply

শিরোনাম